শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ঈদের আগের দিন চাঁদ রাতেও নিজেদের বকেয়া বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তুবা গার্মেন্টসের প্রায় ১ হাজার ৬০০ শ্রমিক আমরণ অনশন শুরু করেছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে তারা বাড্ডা এলাকায় তুবা গার্মেন্টস ভবন ঘেরাও করে তাদের অনশন কর্মসূচি শুরু করেছে।
তুবা গার্মেন্টস কারখানার অনশনরত শ্রমিকদের মধ্যে আরো ১৪ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।এর মধ্যে শ্রমিক নেতা মোশরেফা মিশুও রয়েছেন।এর আগে অনশনরত শ্রমিকদের মধ্যে ৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের স্যালাইন দিতে হয়।বেতন ও বোনাসের দাবিতে রাজধানীর মধ্যবাড্ডার হোসেন মার্কেটের সপ্তমতলায় তুবা গার্মেন্টস কারখানার ভেতরে ঈদের আগের দিন থেকে অনশন শুরু করেন শ্রমিকেরা।
এ ব্যাপারে তুবা গার্মেন্টসের বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, আমরা আমাদের বকেয়া বেতন ভাতা পাইনি। এটি পরিশোধ করা না পর্যন্ত আমরা বাড়ি ফিরে যাবো না এবং অনশনও চলবে।এ ব্যাপারে পোশাক শ্রমিক ঐক্য ফোরামের নেত্রী মুসরেফা শিশু বলেন, এই পোশাক কারখানা থেকেই ব্রাজিলে জার্সি সরবরাহ করা হয়েছে। এ জার্সি বিক্রির অর্থ তখনই পেয়ে যায় মালিক পক্ষ কিন্তু শ্রমিকদের বেতন দেয়নি তারা। এ কারখানার শ্রমিকদের প্রায় ৩ মাসের বেতন বাকি আছে। এ নিয়ে তারা অনেক দিন ধরেই আন্দোলন করে আসছিল
কিন্তু মালিক পক্ষ কোনো কথাই কানে নেয়নি। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার ঈদ শেষ হয়ে গেলেও এখনও বেতন বোনাস সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়নি তাই এই অনশন চলবে। সেই সঙ্গে আমাদের সংগঠনও এর সঙ্গে এক মত প্রকাশ করেছে। এ ব্যাপারে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, আমরা যে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্তক আছি। একই সঙ্গে আমাদের মহিলা ফোর্সও ঘটনাস্থলে রয়েছে।
![]()
জানা যায়, এর মধ্যে ঈদ পার হয়ে গেলেও মালিকপক্ষ কোনো তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি। এমনি কী বিজিএমইএ কিংবা সরকারও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।ফলে অনশনরত শ্রমিকদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। এর আগে শ্রমিক ঐক্যের নেতা মোশরেফা মিশু জানিয়েছিলেন, অনশনরত শ্রমিকদের অনেককেই স্যালাইন দিতে হচ্ছে।
তিনি জানান, বেতন-বোনাসের দাবিতে ঈদের আগের দিন থেকে তুবা গ্রুপের শ্রমিকরা আমরণ অনশনের আন্দোলনের ডাক দেন। তিনদিনে ইতোমধ্যে পাঁচজন শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।এ ছাড়া আরো প্রায় ৫০ জন শ্রমিককে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে আরো ১৪ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের সবাইকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শ্রমিক নেতা মোশরেফা মিশুও রয়েছেন। তিনিও শ্রমিকদের দাবি আদায়ে একই সঙ্গে অনশন শুরু করেন।প্রগতিশীল বাম সংগঠনের পক্ষ থেকে অনশনরতদের চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল টিম পাঠিয়েছে। এই টিম তাদের চিকিৎসা দিচ্ছে।