ইব্রাহিম খলিল : বাংলাদেশীদের জন্য বৃটেনের ভিসা প্রক্রিয়া দিল্লীতে স্থানান্তরকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি চরম অবমাননাকর বলে মন্তব্য করেছেন বৃটিশ হোম এ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির চেয়ার কিথ ভাজ এমপি। তিনি বলেন, দিল্লিতে নয় বরং ঢাকাতেই হতে হবে বাংলাদেশীদের জন্য বৃটিশ ভিসার সকল প্রসেসিং।
বৃটিশ হাউজ অব কমন্সে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানানোর পর এবার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশীদের নিয়ে ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই বৃটিশ রাজনীতিবিদ। রোববার লন্ডনের অভিজাত হোটেল হিলটনে দেওয়া একান্তু সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
বৃটেনের লেবার সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে কিথ ভাজ সিলেটে বৃটিশ হাইকমিশনের আরেকটি ভিসা প্রসেসিং সেন্টার খোলার উদ্যোগ নেন। তার সেই প্রচেষ্টা সফলও হয়েছিলো। তিনি সে সময় সিলেট সফর করেছিলেন। সিলেট সফরের কথা স্মরন করে কিথ ভাজ বলেন, ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা পেতে ইমিগ্রেশন এডভাইজারী সার্ভিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানও তিনি উদ্বোধন করেছিলেন। এখন এই ভিসা প্রসেসিং যদি দিল্লী থেকে করা হয় তাহলে চরম সমস্যায় পড়বেন বাংলাদেশ থেকে বৃটিশ ভিসা প্রার্থীরা।
গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় বৃটিশ হাই কমিশনে সব ধরনের ভিসা প্রসেসিং বন্ধ করে দেয় বৃটিশ সরকার। ১ অক্টোবর থেকে জমা পড়া ভিসা সংক্রান্ত আবেদনের কোন সিদ্ধান্ত দিচেছনা ঢাকায় বৃটিশ হাই কমিশন। বৃটিশ সরকারের এই সিদ্বান্তের প্রতিবাদে সিলেটে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বৃটিশ-বাংলাদেশীরাও সোচছার ভ’মিকা পালন করছেন যুক্তরাজ্যে। বৃটেনের কারী শিল্পের সাথে যুক্ত নেতৃবৃন্দরাও এ নিয়ে লবিং করে যাচেছন। কারী লাইফ ম্যাগাজিনের উদ্যোগে একটি স্বাক্ষর অভিযান চলছে। ম্যাগাজিনের চীফ এডিটর সৈয়দ নাহাস পাশা এই ক্যাম্পেইনে সকলকে অংশহগ্রহন করার জন্য আহবান জানান।
এছাড়াও বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রীটের ওয়েবসাইটে অনলাইন পিটিশন দাখিলের আহবান জানিয়েছেন কিথ ভাজ এমপি। কিথ ভাজ ইতিমধ্যে গত সোমবার পার্লামেন্টারী সিলেক্ট কমিটির সভায় হোম সেক্রেটারী থেরেসা মে‘র কাছে সরকারের সিদ্ধান্ত পূর্ন বিবেচনার আহবান জানিয়েছেন।
বৃটেনে এশিয়ান কমিউনিটি থেকে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী বৃটিশ এমপি কিথ ভাজ বলেন, বাংলাদেশীরা বর্হি:বিশ্বে একটি শক্তিশালী ডায়াসপোরা। বৃটেনেও সম্মানজনক উপস্থিতি রয়েছে তাদের। বর্তমান কোয়ালিশন সরকার এই বিশাল জনগোষ্টিকে কখনো পাশ কাটিয়ে যেতে পারবেনা। এটা হওয়া উচিতও নয়। বৃটিশ সরকারের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের একটি বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক আছে। এই সম্পর্কে আরো জোরদার করা উচিত।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি যেভাবে হচেছ, তাতে বাংলাদেশের সাথে আরো বেশী অফিসিয়াল যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। বৃটেনে বাংলাদেশীরা যেভাবে সকল ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন করছেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন দেওয়া উচিত বৃটিশ সরকারের। তাই অভিলম্বে দিল্লী থেকে বৃটিশ ভিসা প্রসেসিং কার্যক্রম ঢাকায় স্থানান্তরের আহবান জানান কিথ ভাজ।
বৃটেনের বর্তমান কোয়ালিয়শ সরকারের মেয়াদ আর মাত্র প্রায় ৬ মাস। আগামী ২০১৫ সালের মে মাসে বৃটেনে পার্লামেন্ট নির্বাচন। সরকার এ সময়ে মধ্যে যদি তাদের সিদ্ধান্ত পূর্ন:বিবেচনা না করে, তাহলে কি করনীয় ? এমন প্রশ্নের জবাবে কিথ ভাজ বলেন, তার সরকার অবশ্যই মে মাসে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসবে। আর লেবার সরকার ক্ষমতায় আসলেই দ্রুত পরিবর্তন হবে এই সিদ্ধান্ত।