শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:২০

প্রতারিত সিলেটের টাইম স্কয়ারও

প্রতারিত সিলেটের টাইম স্কয়ারও

চৌধুরী মুমতাজ আহমদ: আলী আমজাদের ঘড়ি যদি হয় সিলেটের বিগবেন তবে এটি হতে পারতো সিলেটের টাইম স্কয়ার। যোগ-বিয়োগ না করেই থ্রি ইন ওয়ান ঘড়িটি দেখেই পথ চলতি মানুষ জেনে নিতে পারতেন বিলেতে ক’টা বাজে আর ক’টাই বা বাজে সৌদি আরবে।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের অনেক মানুষই থাকেন দেশ দু’টিতে। তাই সে দু’টি দেশের সময়ের প্রতিও টান আছে সিলেটের বাসিন্দাদের। সিলেট সিটি করপোরেশনের সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পের আওতায় ২০১৪ সালের ২রা জুন দু’দেশের সময় জানিয়ে দেয়ার অনুমতি পায় একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা। নিজেদের খরচে তারা তৈরি করে দেবে একটি ঘড়িস্তম্ভ।

যেখানে যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের সময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের সময়ও নির্দেশিত হবে। ঠিক হয় সিলেটের বন্দরবাজারে হকার পয়েন্ট নামে পরিচিত ত্রিভুজাকৃতির জায়গাটিতেই হবে এ ঘড়িস্তম্ভ। জায়গাটি ঐ বিজ্ঞাপনী সংস্থাই প্রস্তাব করেছিলো। এর আগে এখানেই তারা একটি ফোয়ারা তৈরি করে দিয়েছিলো।

কাজে নামে ‘আর্টসাইন’ নামের বিজ্ঞাপনী সংস্থাটি। থ্রিডি ডিজাইনার এহতেশাম শিপলুকে দেয়া হয় নকশার দায়িত্ব। তৈরি হয় ঘড়িস্তম্ভের নকশা। নিচ থেকে মশালের মতো উঠে যাওয়া ২০ ফুট উঁচু চৌকো স্তম্ভ। তিনদিকে থাকবে তিনটে ঘড়ি, পেছনে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হাসান মার্কেট। কাজ শুরু হয়। ইটের উপর ইট বসে অবয়ব পায় ঘড়িস্তম্ভ।

মাঝখানে বাজারে রটে যায়, আর্টসাইন সংশ্লিষ্ট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর এক প্রিয়ভাজন ঘড়িস্তম্ভের ফাঁক দিয়ে বাণিজ্যের পসরা সাজিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আর্টসাইন থেকে মেয়রকে পত্র দিয়ে জানানো হয়, কোন বাণিজ্য নয়-জনস্বার্থেই ঘড়িস্তম্ভ নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছিলো তারা। অন্য কেউ যদি করতে রাজি হয় তবে সে দায়িত্ব ছেড়ে দিতেও রাজি আছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

এমন জট পাকানো অবস্থায় আরও জট লাগে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় জড়িয়ে গেলে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরিফুল হক কারাবন্দি হন, পদও হারান সাময়িকভাবে। এমন জটিলতায় ঝুলে যায় টাইম স্কয়ার।

এছাড়া, বর্তমান সরকারের বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতাও আটকে দেয় টাইম স্কয়ারের ঘড়ির কাঁটাকে। অনেকখানি এগিয়ে যাওয়ার পর থেমে যায় ঘড়িস্তম্ভের কাজ।

পরে জটিলতা কাটে। সিটি করপোরেশনের নৈমিত্তিক কাজ সামলানোর দায়িত্ব পান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। দেশের পরিস্থিতিও শান্ত হয়। কিন্তু কি এক কারণে টাইম স্কয়ার থেকে আগ্রহ হারায় সিটি করপোরেশন। কাজ শেষ করার আর সুযোগ মেলে না আর্ট সাইনের। কাজ প্রায় শেষ, অত্যাধুনিক ঘড়িও এসে গেছে চীন থেকে শুধুমাত্র বসানোর অপেক্ষা। বেঁকে বসে সিলেট সিটি করপোরেশন, তাদের কাছ থেকে আর অনুমতি মেলে না ঘড়ি স্থাপনের। ঘড়ির জন্য জায়গা শূন্য রেখেই যেনো ফোকলা দাঁতে দাঁড়িয়ে আছে ঘড়িস্তম্ভ।

টাইম স্কয়ারের ঘড়ি কি চলার আগেই থেমে যাবে। এমন প্রশ্নের জবাব মেলেনি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে। টাইম স্কয়ারের ভবিষ্যৎ যে খুব একটা উজ্জ্বল নয় তা বুঝতে অসুবিধে হয় না কারণ এ সংক্রান্ত কোনো নথিই নেই সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগে।

সিটি করপোরেশনের এমন জবাবে নতুন প্রশ্ন জাগে, তারা যদি নাই জানে তবে কি করে এগুলো টাইম স্কয়ারের কাজ। কে দিলো কাজের অনুমতি কোন বলেই বা সিটি করপোরেশনের নাকের ডগায় গড়ে উঠলো টাইম স্কয়ার। করপোরেশনের কাছে কোন তথ্য না থাকলেও মানবজমিনের হাতে থাকা কাগজপত্র বলছে করপোরেশনের অনুমতি নিয়েই ঘড়িস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু করে আর্টসাইন।

কিন্তু নগর কর্তৃপক্ষ এখন আর তারা চাইছে না সচল হোক ঘড়িস্তম্ভ। কি কারণে গাছে তুলে দিয়ে মই কেড়ে নিতে চাইছে সিটি কর্পোরেশন সেটা একটা রহস্যই।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026