শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৪

আজ মহান বিজয় দিবস: আনন্দে মেতেছে বাংলাদেশ

আজ মহান বিজয় দিবস: আনন্দে মেতেছে বাংলাদেশ

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বাড়ি, গাড়ি, প্রতিষ্ঠানে পতপত করে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা। মানুষের মাথায় পতাকার রঙের ফিতা। গায়ে পতাকার রঙের পোশাক। পতাকায় সজ্জিত রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ। সবার মনে বিপুল আনন্দ। দেশজুড়ে উৎসব।

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বাংলাদেশের সবচেয়ে আনন্দের, বড় প্রাপ্তির দিন। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দুই যুগের পাকিস্তানি শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছিল যে বাংলাদেশ, তা পার করল ৪৪ বছর।

৪৪ বছর আগে এই দিনে পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। বাংলাদেশের আপামর জনতার দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং বিশ্ব জনমত গঠনে প্রবাসীদের সংগ্রাম আর আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে পাকিস্তানী শাসন থেকে মুক্তিপায় বাংলাদেশ। পরাজিত হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

নয় মাসের সংগ্রাম আর রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বহু আকাঙ্ক্ষিত এই দিনটি এসেছিল। ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ৪৪ বছর আগের এই দিনে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী হাতের অস্ত্র ফেলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েছিল বিজয়ী বীর বাঙালির সামনে। যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতি দিবসটি পালন করছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১ সালে মুক্তি সংগ্রাম শুরুর পর ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স (এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে মুক্তিবাহিনী ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের যৌথ নেতৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করেন যুদ্ধে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমীর আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী।

একাত্তরে বাঙালি হত্যায় পাকিস্তানি বাহিনীর দোসরদের যারা জড়িত ছিল, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে তারা চলে যায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। বহু প্রতীক্ষা শেষে চার দশক পর শুরু হওয়া যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় আসার পর একে একে চারজনকে ঝোলানো হয় ফাঁসিতে।

সর্বশেষ গত ২২ নভেম্বর ফাঁসি হয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মো. মুজাহিদের, যারা বাংলাদেশের মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছিলেন। তাদের ফাঁসির পর এবারের বিজয় দিবস কিছুটা ভিন্ন মাত্রায় পালন করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

ঢাকায় ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সাংসদ, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিকেরাও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

পরে সর্বসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের। বেলা ১১টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্মৃতিসৌধে যান। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বরাবরের মতো এবারও মহান বিজয় দিবস পালনের বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ১০টার দিকে বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ শুরু হয়। কুচকাওয়াজে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধদলীয় নেতা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ সরকারি ছুটি। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাতে গুরুত্বপূর্ণ ভবনে করা হবে আলোকসজ্জা। হাসপাতাল, শিশুসদন ও কারাগারগুলোতে পরিবেশন করা হবে বিশেষ খাবার।

বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে বিজয় শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিএনপি ঢাকায় বিজয় শোভাযাত্রা করবে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026