রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ১১:৪৪

মাহে শাবান : করণীয়-বর্জনীয়

মাহে শাবান : করণীয়-বর্জনীয়

 

 

 

 

 

 

মুফতি মুফিজুর রহমান: শাবান মাস রমযানুল মোবারকের জন্যে প্রস্ত্ততিমূলক মাস। এজন্য নবী করিম (স.) শাবান মাসে দুটো কাজ বেশি বেশি করতেন। বেশি বেশি রোযা রাখতেন। আর বেশি বেশি নফল নামায আদায় করতেন। এজন্য নবী করিম (স.) পুরো শাবান মাসই নফল রোযা রাখতেন। তবে ২৯ ও ৩০ শাবান রোযা রাখতেন না এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.) কেও এই দুইদিন না রাখার কথা বলতেন। কেননা রমযান মাসের প্রথম তারিখ থেকে ফরয রোযা রাখতে হবে। তাই যাতে দুর্বলতা বৃদ্ধি না পায়। এজন্য রাসূলুল্লাহ (স.) ঐ দুই দিন রোযা না রাখতে বলতেন। তবে কেউ যদি তবুও রাখে বা রাখতে পারে তাতে কোনো বাধা নেই। নফল রোযা পুরো মাস রাখা যায়। তবে যদি কেউ না রাখে এতে কোনোরূপ গোনাহ নেই। রাখলে সওয়াব পাওয়া যাবে। হ্যাঁ অন্তত ‘নিসফে শাবান’ অর্থাৎ শবে বরাতের রাত্রে সাহরী খেয়ে রোযা রাখার চেষ্টা করা উত্তম। আর নফল ইবাদত বিশেষ করে নামায পড়া ভালো। তবে অতিরিক্ত জুলুম করা নিজের নফসের উপর ঠিক নয়। এব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে। কবর জিয়ারত : কবর জিয়ারত করা ভালো। উত্তম কাজ। সারা বছর যে কোনো সময় নিজের আত্মীয় সহ মুসলমান মৃত ব্যক্তিদের জন্য দুআ করা পূন্যের কাজ। শবে বরাতের রাত্রেও কবর জিয়ারত করা যায়। কেননা রাসূলুল্লাহ (স.) একবার শবে বরাতের রাত্রে ‘জান্নাতুল বাকি’ নামক কবরস্থানে জিয়ারত করতে গিয়েছেন এমন তথ্য পাওয়া যায়। সুতরাং আমরা অন্তত একবার জিয়ারত করতে যেতে পারি। তবে কেউ যদি জীবনে বারবার জিয়ারত করতে যায় তবে বাধা নেই। কিন্তু কেউ যদি সারা বছর কবর জিয়ারত করেনা। আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ খবর নেয়না। শুধুমাত্র শবে বরাতেই দল বেঁধে জিয়ারত করাকে সুন্নাত বা জরুরী মনে করে তবে তা হবে বিদআত বা কুসংস্কার। হালুয়া রুটি, তাবারুক : মানুষকে মেহমানদারী করা, খাওয়ানো ভাল। কিন্তু শবে বরাতে বাধ্যতা মূলক শিরনী, তাবারুক বা হালুয়া রুটির আয়োজন করা, ধুমধাম করা এবং এটাকে জরুরী মনে করা কুসংস্কার। যা আগেকার সময় প্রায় বাধ্যতামূলক ছিল। কেউ তা না করলে তাকে কৃপন, কনজুস মনে করা হত। আসলে তা বর্জন করা ভালো। কেননা শিরনী, তাবারুক, হালুয়া রুটির সাথে শবে বরাতের কোনো সম্পর্ক নেই। চেরাগ বাতি : এদিন বা রাতকে বাত্তির রাত, দিন বাততির চাঁদ-বাততির মাস বলা হয়, আসলে কোনোটাই ঠিক নয়। কেউ কেউ ঘরে বাইরে মসজিদে এমন কি রাস্তাঘাটে, পুস্করিনীর পারে, গরু ঘরে ইত্যাদিতে বাতি, ঝাড়বাতি, জ্বালিয়ে রাখেন। তা কুসংস্কার। ইবাদতের সাথে এসব বাতির কোনো সম্পর্ক নেই। তা বর্জন করা আবশ্যক। ফটকাবাজী : ফটকাবাজী করাও অন্যায়। কেননা এতে অপচয় হয়। ইবাদতের রাত্রে মানুষের কষ্ট হয়। শয়তানী কাজের পথ উন্মুক্ত করা হয়। তা বর্জন করা আবশ্যক। আলোকসজ্জা : কোনো কোনো এলাকা ও বাড়ীতে খুব গুরুত্ব সহকারে আলোকসজ্জা করা হয়। তাও বিদআত, কুসংস্কার ও অপচয়ের শামীল। অনেক সময় ফটকাবাজী ও অতিরিক্ত আতশবাজী ও আলোকসজ্জার কারণে বাসা বাড়ীতে আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকে। বাচ্চাদেরকে আতশবাজী, ফটকাবাজী করতে বারণ করা, নিষেধ করা কেননা, এতে করে ছোটবেলা থেকে অন্যায়, অপকর্ম ও অপচয়ে অভ্যস্থ হওয়ার প্রশ্রয় পায়। সুতরাং তাও বারণ করা, বর্জন করা জরুরী। মসজিদে ইবাদতের নামে শোরগোল : এই রাত ইবাদতের রাত। নিরিবিলি একা একা নফল ইবাদতের রাত। তাই, মসজিদে শোর-গোল করা ভাল নয়। শুধুমাত্র ইবাদত করার জন্য আল্লাহর ঘরে সমবেত হওয়া যায়। মূলত মসজিদ ফরয নামায আদায় করার জন্য নির্ধারিত। তাই যদিও অন্যান্য সুন্নাত ও নফল ইবাদত করা যাবে মসজিদে কিন্তু কোনো মতেই শোরগোল করা যাবে না। এতে গোনাহ হবে। আল্লাহর ঘরের সাথে আদব রক্ষা হবে না। তাই তাও বর্জন করতে হবে। কুরআন তেলাওয়াত জিকির আযকার করা যায়। তবে চোখে ঘুম নিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা অন্যায়। কাযা নামাযও আদায় করা যায়। মা-বাবা, মৃত ব্যক্তি, আত্মীয় স্বজন, ভাই-বন্ধুর জন্য দুআ করা সমীচিন। আল্লাহ পাক যেনো সঠিক ইবাদত করার তাওফিক দিন। আমীন।

 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024