শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: সিঙ্গাপুরে ২০১৪ সালে স্তূপীকৃত বিমের নিচে পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৭০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই জরিমানা রায় ঘোষণা করেছে।
কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় জরিমানা করা হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। এ খবর জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের পত্রিকা স্ট্রেইট টাইমস। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের শ্রমিক হাসান শাহেদ সিঙ্গাপুরের শিটপাইল ভাইব্রো ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ২০১৪ সালের ৩০শে ডিসেম্বর মাসে নির্মাণ কাজের সাইটে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ২৪ বছর বয়সী এই শ্রমিক।
সিঙ্গাপুরের ক্রাঞ্জি শহরের ওই নির্মাণ সাইটে হাসান শাহেদ, তার আরেক সহকর্মী ও সাইট সুপারভাইজার সাতটি ধাতব বিমের একটি স্তূপের পাশে সমান্তরালে আরও আটটি ধাতব বিমের স্তূপ রাখেন। এসব বিমের প্রতিটির ওজন ছিল প্রায় আটশ’ ৭০ কেজি। এসব বিমের স্তূপকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য কোনো ধরনের ব্যবস্থা ছিল না। তারপরেও এই বিমের এই দুই স্তুপের মাঝখানে সুপারভাইজার আরও চারটি বিম রাখেন।
এরপর সুপারভাইজার বুঝতে পারেন যে এভাবে রাখা বিমগুলো যে কোনো সময় ধ্বসে পড়তে পারে। সে কারণেই তিনি যন্ত্রের সাহায্যে নতুন বিমগুলোকে ওপরে তুলে ধরেন এবং হাসান ও তার সহকর্মীকে মাঝের জায়গাটিতে কাঠের খণ্ড রাখার নির্দেশ দেন। কাঠের খণ্ডকে ওই জায়গায় স্থাপন করতে গেলেই আটটি ধাতব বিমের স্তূপ হাসানের ওপর উল্টে পড়ে যায় এবং হাসান আটকে পড়েন বিমের স্তূপের মাঝে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।
আদালতে সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের কৌঁসুলি এরদিয়ানা হ্যাজলিনা বলেন, এই কোম্পানি তাদের সাইটে কাজের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেনি। তারা এই কাজের জন্য আগে থেকে ঝুঁকির কোনো প্রাক্কলনও করেনি। ঝুঁকির কথা না ভেবেই বিমের স্তূপ রাখার পদ্ধতির সমালোচনা করেন তিনি। ফলে কোম্পানির কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় শিটপাইল ভাইব্রো ইঞ্জিনিয়ারিং।
এতে করে কোম্পানিটি সিঙ্গাপুরের কাজের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য আইন ভঙ্গ করেছে। আর সে কারণেই এই কোম্পানিকে এক লাখ ৭০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শ্রমিকের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট এই আইন ভঙ্গের কারণে পাঁচ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।