নিউজ ডেস্ক: পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মেজর মো. মিজানুর রহমানের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছেন তাঁর বৃদ্ধ মা। পাশে থাকা শিশুটি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে রেলিংয়ের ওপারে থাকা কবরের দিকে। পাঞ্জাবি-পায়জামা পরা শিশুটি কাঁদছে না। দাদির কান্নার দিকেও যেন তার খেয়াল নেই। তার সমস্ত মনোযোগ কবরের দিকে।
বাবা কি, তা বোঝার আগেই ফা
রজিন রহমান সামির বাবা মিজানুর চলে গেছেন না-ফেরার দেশে। তারও আট মাস আগে চিরতরে বিদায় নিয়েছেন মা। তাই হয়তো কবরের দিকে তার এত মনোযোগ।
তবে শোক আর স্মৃতিকাতর মিজানুর রহমানের মা কুহিনূর বেগমের কান্না থামছিলই না। কান্নার ফাঁকে ফাঁকে অস্ফুটে শুধু বলছিলেন ‘বলে গেল আসবে, আর আসল না’। কান্নার তীব্রতায় তাঁর নুয়ে যাওয়া শরীর কেঁপে উঠছিল ক্ষণে ক্ষণে।
শুধু মিজানুরের মা কুহিনূর বেগম, ভাই লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস-উর রহমান, ছেলে ফারজিন রহমান সামি নয়। আজ বৃহস্পতিবার বনানী সামরিক কবরস্থানে জড়ো হয়েছিলেন পিলখানার বিদ্রোহে নিহত অন্যান্য সেনাসদস্যের পরিবারও। শোকে, শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায় স্মরণ করেন না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া প্রিয়জনদের।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আজ সাত বছর পূর্তি। এ উপলক্ষে সকাল নয়টায় বনানী কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে সামরিক আনুষ্ঠানিকতাও ছিল। শুরুতে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এরপর সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবং বর্ডার গার্ডের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে শহীদ পরিবারের সদস্যরা নিহত স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া পাঠ করেন। এ সময় সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। কেউ মোনাজাতের সময় কাঁদছিলেন, কেউবা দাঁড়িয়ে ছিলেন শোকে পাথর হয়ে। তাঁদের কেউ হারিয়েছেন স্বামী, কেউ সন্তান, কেউ বাবা, কেউবা ভাইকে।
নিহত কর্নেল কুদরত এলাহী রহমানের ছেলে সাকিব রহমান বলেন, ‘প্রতি মুহূর্তেই বাবাকে মনে পড়ে। সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভোকেশন হোক বা অন্য কোনো মুহূর্ত। বাবাকে হারানোর পরের ১০ দিন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ ১০ দিন।’
কর্নেল গুলজার উদ্দিন আহমদের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর বোন দিলরুবা খাতুন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা যা হারিয়েছি তা পূরণের নয়। আমরা এখন বিচার কার্যকর দেখতে চাই।’
সাত বছর আগের (২০০৯) ঠিক এই দিনে (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিদ্রোহী জওয়ানেরা তাণ্ডব চালান পিলখানায়। তাঁদের হামলায় প্রাণ হারান ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন।