শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার গণতন্ত্রের উদাহরণ দিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, আমেরিকায় যার কাছে ডলার আছে, তার কাছে গণতন্ত্র আছে। আমাদের দেশেও গণতন্ত্র কিছু সুবিধাভোগি মহলের কাছে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তাই গণতন্ত্র হলেই মানুষের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পাবেন, বরং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইনজীবী মহলকে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবার আগে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
বুধবার দুপুরে সিলেট জজ কোর্ট প্রাঙ্গনে ডিজিটালাইজড উইটনেস ডিপোজিশন সিস্টেম এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক এমপি, ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি রোবার্ট ওয়াটকিনস। সম্মানীত অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেটের পিপি মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জিপি খাদেমুল মিল্লাত মো. জালাল, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সমিউল আলম, সাধারণ সম্পাদক শাহ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. একে আবদুল মোমেন, সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, জেবুন্নেছা হক প্রমুখ।
পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশে প্রথমবারের মতো সিলেট জজ কোর্টের ৪০ টি আদালতের মধ্যে ২০টিতে ডিজিটাল স্বাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। এর ফলে বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি বিদেশী বিনিয়োগের জন্য দেশের বিচার বিভাগের উন্নয়ন জরুরি জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে বিচার বিভাগেরও উন্নয়ন করতে হবে। অন্যথায়, বিদেশীরা এদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না। এজন্য বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটালইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সিলেট জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাঠওয়ারির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধান বিচারপতি আরও বলেছেন, আমাদের সংবাদ মাধ্যম অত্যন্ত স্বাধীন। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার টকশো ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বিচার বিভাগ নিয়েও আলোচনা হয়। তবে বিচার বিভাগ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে সমালোচনায় এই স্বাধীনতার সীমালঙ্ঘন করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেন, সংবিধানের আর্টিকেল অনুচ্ছেদ আমাদেরকে আনলিমিটেড লিবার্টি দেয়নি। লিবার্টি ও আইনের একটা সংযোগ রয়েছে। এমন স্বাধীনতা প্রয়োগ করা যাবে না, যা অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে। দেশের এখনও ৩০ লাখ মামলাজট রয়েছে জানিয়ে প্রধান বিচাপতি বলেন, আমাদের মামলাজট কবে শেষ হবে তা নিশ্চিত করা বলা যাচ্ছে না। তবে, যেভাবে স্বাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারপ্রক্রিয়া আধুনিকায়ন হচ্ছে, এতে আস্তে আস্তে এর সংখ্যা কমে আসবে। আইনজীবী, সুশীল সমাজ ও রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তোরণ সম্ভব হবে না।
বিচার বিভাগে ডিজিটালইজেশন প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপি’র সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেছেন, বিচার বিভাগ ডিজিটালইজড হলে বিচারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। কম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে। এজন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ থাকতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০১৮ সালের পরে দেশে বিদ্যুতের কোন ধরণের সমস্যা থাকবে না। এরফলে দেশের সকল আদালতকে ই-সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ডিজিটাল বিচার ব্যবস্থার সফলতা নির্ভর করে বিচারক, আইনজীবী, বাদি, বিবাদি ও সাধারণ মানুষের উপর। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলেটের আদালতে ডিজিটাল স্বাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রমের পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের উন্নয়নে শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। এই পদ্ধতির ফলে স্বাক্ষী তার দেওয়া স্বাক্ষ্য হুবহু লিখা হয়েছে কি-না, তা জানতে পারবে। আইনজীবী, বাদি ও বিচারক; এমনকি সাধারণ মানুষও স্ক্রিনের মাধ্যমে দেখতে পারবে। এতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আর শোনা যাবে না।